EAST BENGAL the Real POWER -The Official Website
EAST BENGAL the Real POWER Fans

"খুব মিস করি ঐ মনাদা বনাম সুব্রতের ডুয়েলটা " - রুপঙ্কর ।

এই ধুলোমাখা শহরের অন্যতম ব্যাস্ত গায়ক তিনি,কখনও তার কন্ঠ থেকে বেড়িয়ে এসেছে 'গভীরে যাও'য়ার দাবি,আবার যৌবনের প্রেমকে আঁকড়ে ধরে "প্রিয়োতমা"কে ছোঁয়ার হাতছানি।ইনি রুপঙ্কর,রুপঙ্কর বাকচী।সদ্য ইষ্টবেঙ্গল অফিসিয়াল ফ্যান মেম্বারশিপ নং 000232 এর ধারক।গানকে মুলধন করে যার একটা গোটা দিন কেটে যায়,তার সাথে ইষ্টবেঙ্গলের সম্পর্কটা নতুন নয়,এই লালহলুদের টানেই খোলামেলা আড্ডা,তীব্র ব্যাস্ততার মধ্যেও উঠে এল শৈশবের পড়ন্ত বিকেলের স্বৃতি।

" আমাদের পুরো বাড়ি ছিল ইষ্টবেঙ্গল সাপোর্টার।খেলার দিনে বাবার সেই কৌতুহলী মুখটা আজও মনে পড়ে"-গায়ক রুপঙ্করের গলায় ঝড়ে পড়ল শৈশব হারানোর বেদনা। তার পছন্দের খেলোয়ার ছিলেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত।খেলার মাঠে অনেকবার যাকে নকলও করতে চেয়েছিলেন হুবহু।পরবর্তীকালে মাঠের মধ্যে মনাদা বনাম সুব্রত ভট্টাচার্য্যের লড়াইটা তার চাহিদার উপকরণে ছিল এক নম্বরে ।আর ডার্বি ?? - " এই দিনটার জন্য সকল বাঙালীর মতো আমরাও বসে থাকতাম, ডার্বি মানেই ছিল একরাশ চাপা উত্তেজনা, আমার বাবার নাম ছিল 'রানা' ! এখনও মনে আছে একবার বিদেশ বসুর গোলে মোহনবাগান জিতেছিল বলে পাড়ার লোকেরা বাবাকে সবুজ-মেরুন আবির মাখিয়ে দিয়েছিল, সেই দিনগুলি এখনও খুব মিস করি " !

গানের শো এর জন্য বাইরে যেতে হয় প্রায়শই,ঠিকমতো ফুটবলেরর খবর রাখা সম্ভব হয়না,সেখানেই তার আক্খেপ -" ইস!যদি একটা হট্-স্টারে ফুটবল ফুটবলের খবর জানা যেতো " ! একটা সময় ছিল যখন চিমা-মজিদের খেলা চেটেপুটে আস্বাদন করেছেন-"ঐ মানের আর বিদেশী কোলকাতায় আর এল কই?; এটার জন্যও কিন্তু অনেক পাগলামো কমে গেছে এখন" । খেলার টানে দুরদর্শনের সামনে কাটিয়ে দিয়েছেন বহুসময়।এখনও সেই ক্রীড়াপ্রেমটা ঢুকে আছে রক্তে । বিদেশী ফুটবল নিয়মিত না দেখলেও কিছুটা বিশেষজ্ঞের ভুমিকাতেই বললেন-" ওদের স্কিল,পাসের পাশে আমাদের ভারতীয় ফুটবল যেন পিছিয়ে যাচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। "আই.এস.এল এ তো তবু প্রোমোশন হয়,তাই ওটার গ্রহনযোগ্যতা সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি"- কিছুটা যেন করুনবাক্যে বললেন রুপঙ্কর।
assets/uploads/undefined/wysiwyg/Untitled-24.jpg

assets/uploads/undefined/wysiwyg/Untitled-33.jpg

"প্রেম করতাম যখন, প্রেমিকাকে মিথ্যা কথা বলেছি বহুবার শুধুমাত্র ইষ্টবেঙ্গলের খেলা দেখার জন্য,আইএফএ শিল্ডে এ কৃশানুর গোলটা এখনও মনের মনিকোঠায় উজ্বল হয়ে আছে "-রুপঙ্কর যেন এক আদ্যপ্রান্ত ক্রীড়াপ্রেমীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হলেন।
আর খেলার মাঠের পরিবেশ ? -স্বমহিমায় আবার একটা "ভোকাট্টার" সুরে জানিয়ে দিলেন - "গালাগালি ছাড়া বাংলা ফুটবল জমেনা,তবে এবার মহিলাদেরও মাঠে নিয়ে আসার ব্যাবস্হা করা হোক,শুভ বুদ্ধির উদয় হোক কর্মকর্তাদের,পরিবর্তন হোক মানসিকতার" ।

" ফ্যানবেস ছাড়া কোনকিছুরই স্হায়িত্ব নেই,তাই এই ফ্যানক্লাবের গুরত্ব অপরিসীম,কর্মকর্তাদের এই সমর্থকদের কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, ওরাই ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখবে বহু প্রজন্ম " - রুপঙ্করের প্রশষ্তিবাক্যে যেন এক সরলতা ফুটে উঠল শেষ মুহূর্তে ।
আর এভাবেই বেঁচে থাকুক রুপঙ্করের গান,গানের মধ্যেই বেঁচে থাকুক আমাদের ইষ্টবেঙ্গল । আজ শুধু কোটি কোটি ইষ্টবেঙ্গলিয়ানরা নয়,লালহলুদের আবেগটা পৌছে গেছে সকল পেশার মানুষের রক্তবিন্দুতে। আর এইজন্যই হয়তো আমাদের বুকের বারুদ আরও একবার বলে ওঠে -" মশাল হাতে এগিয়ে চল,রক্তে আমার ইষ্টবেঙ্গল" ।