EAST BENGAL the Real POWER -The Official Website
EAST BENGAL the Real POWER Fans

"ইস্টবেঙ্গলে সাইন করবার সময় চ্যালেঞ্জ নিয়েছি এবার সমর্থকদের আই লীগ দেবো": এডুয়ার্ডো ফেরিয়ার.

উগা ওপারার পর দীর্ঘদিন ইস্ট বেঙ্গল রক্ষনে বিদেশী নিয়ে সমস্যা ছিল। অনেকে এসেছে কিন্তু ভরসা কেউ যোগাতে পারে নি। এই মরশুমের শুরুতেও সিএফএল চলার সময় একি সমস্যায় জর্জরিত ছিল ইস্ট বেঙ্গল। জেতা ডার্বি ড্র করতে হয়েছে মিশেলের শিশুসুলভ ভুলের জন্য। আই লীগের প্রি সিজন ট্রেইনিং এর সময় মিশেল চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়াতে ইস্ট বেঙ্গল থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কালবিলম্ব দেরি না করে আইএসএল আর মোহন বাগানে এক মরশুম খেলা দীর্ঘদেহী ব্রাজিলিয়ান এডুয়ার্ডো ফেররিয়ার কে সাইন করিয়ে নেন। বিগত কয়েক বছর ধরে রক্ষনে বিদেশী নিয়ে যে সমস্যায় ক্লাব ভুগছিল, আই লীগের ৩ ম্যাচের পর টিম ম্যানেজমেন্ট আর সমর্থকদের ভরসা যুগিয়ে মনে জায়গা করে নিয়েছেন আপাদমস্তক টিম ম্যান এডুয়ার্ডো। রক্ষন সামলানোর সাথে সাথে আক্রমনভাগে উঠে এসে গোল করেও দলকে নির্ভরযোগ্যতা জুগিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। আমাদের ইবিআরপি সংবাদদাতার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এডুয়ার্ডো ভীষণ খোলামেলা বক্তব্য রেখেছেন।

ইবিআরপিঃ এটা আপনার দ্বিতীয় মরশুম কোলকাতায়, প্রথম ইস্ট বেঙ্গলে। লাল হলুদ জার্সি পরে খেলার অনুভূতি কেমন, বিশেষ করে যেখানে আগের বছর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতিনিধিত্ত করেছেন?

এডুয়ার্ডোঃ ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে খেলা আমার কাছে স্বপ্নের মত। আমি ভীষণ খুশি ও উত্তেজিত এইরকম অতিহ্যবাহি ক্লাবে খেলার জন্য যাদের বিশাল আবেগপ্রবন সমর্থক আছে। আমি জানি যে এটা খুব কঠিন কাজ নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা ও প্রমাণ করা সমর্থকদের কাছে যে আমার শরীর ও আত্মা এখন শুধুমাত্র লাল হলুদের জন্য। আমি এটা নিয়ে একদম ভাবি না যে অতীতে আমি কাদের হয়ে খেলেছি, আমার কাছে এটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ যে আমি এখন ইস্ট বেঙ্গল পরিবারের সদস্য। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গলে সাইন করবার সময় আমি ব্যাক্তিগতভাবে এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি যে এবার সমর্থকদের আই লীগ দেবো, যা তারা বিগত ১৪ বছর ধরে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে আছে। আমি নিজের সেরাটা দেব এর জন্য।

ইবিআরপিঃ ৩টে ম্যাচ খেলেছেন এর মধ্যে সেট পিস থেকে ২টো গোল করে ফেলেছেন, আমরা সাক্ষী হয়ে আছি যে এডুয়ার্ডো ফেররিয়া নতুন অবতার হিসাবে দেখে দিয়েছেন। আমরা কি দেখতে পাবো আপনি আরও গোল করবেন দলের হয়ে? আপনার কি বিশেষ ট্রেনিং বা প্ল্যান আছে এই গোল করবার পেছনে যেখানে আগের মরশুমে মোহন বাগানের হয়ে ১৫টা ম্যাচে কোন গোল করতে পারেননি?

এডুয়ার্ডোঃ খুব জোরে হেঁসে উঠে উত্তর দিলেন ‘প্রিয় বন্ধু, ট্রেনিংই হল মুল চাবিকাঠি। আমি প্রতিদিন অনুশীলনে প্রচণ্ড পরিশ্রম করি আর চেষ্টা করি সেটা ম্যাচে দেওয়ার। কাটসুমি, আমনা, লোবোর মত আমাদের ভালো ডেড বল স্পেসালিস্টরা খুব ভালো ফর্মে আছে যারা আমার কাজটা সহজ করে দিচ্ছে। আমার এক ঝাঁক খুব ভালো সহকর্মী, কোচ, সাপোর্ট স্টাফরা আছেন যারা সবসময় সাহায্য করছেন একসাথে কিছু করবার। সেটপিস চলাকালীন আমি নিজের লক্ষ এবং জায়গা ঠিক রাখি। আশা রাখি ভবিষ্যতে সুযোগ আসলে আরও গোল করবো।‘

ইবিআরপিঃ এক নতুন পরিবেশ আপনার জন্য। আপনার মতামত কি কোচ(খালিদ জামিল), ফিসিক্যাল ট্রেইনার (গার্সিয়া), কোচিং স্টাফ এবং সহকর্মীদের নিয়ে, কেমনভাবে নিচ্ছেন আপনারা সবাই?

এডুয়ার্ডোঃ একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘অনেকদিন পর, আমি খুব খুশী যে এই রকম পরিবারের সদস্য হয়ে যেখানে সবার দর্শন ও লক্ষ্য এক। আমি ভীষণভাবে উপকৃত কোচের কাছে যে আমাকে খুব সাহায্য করেছে আমার শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস লেভেলের উন্নতির জন্য এবং তিনি এটা খুব কম সময়ে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আমাদের খুব কঠোর আর নিষ্ঠার সাথে অনুশীলন চলে যা আমাদের শরীরের শেষ শক্তি বিন্দুটা বার করে আনে। যা খুব ভালো লক্ষণ। আর গার্সিয়া এমন একজন মানুষ যার কাছে প্লেয়াররা অকপটে সব শারীরিক সমস্যার কথা বলে যিনি সেগুলো ঠিক করে রেখে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সাপোর্ট স্টাফ আর সতীর্থরা সবসময় নানারকমভাবে একে অপরকে মাঠের মধ্যে আর বাইরে সাহায্য করে। আমারা অনেক মিটিং এবং সেশন করি যেখানে অনেকরকম স্ট্রাটেজি ও আগের ম্যাচের ভুলভ্রান্তি নিয়ে আলোচনা হয়। আমাদের মন ও শরীর প্রতিদিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আমাদের নীতি হচ্ছে প্রতিটা ম্যাচ ধরে এগোনো।‘

ইবিআরপিঃ আপনার লম্বা খেলোয়াড়ি জীবন রয়েছে যেখানে আপনি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আপনি কিরকম নাম্বার দেবেন ভারতীয় ক্লাব এবং প্লেয়ারদের বিশেষ করে কোলকাতার সমর্থকদের? আপনার কি মনে হয় ফুটবল জাতি হিসাবে ভারত সামনে এগচ্ছে এবং বড় টিম গুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখে ফেলতে পারে?

এডুয়ার্ডোঃ হ্যাঁ, আমি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছি। আমি আকর্ষণীয় মিল খুঁজে পাই কোলকাতার আর কালির(কলম্বিয়ার একটি শহর) সমর্থকদের মধ্যে, যারা ভীষণভাবে আবেগপ্রবন দলের খেলা নিয়ে। ম্যাচের দিন অসংখ্য সমর্থকরা স্টেডিয়ামে যায়, দলবেঁধে উচ্ছ্বাস করে। ডার্বি হারের পর তাদের ভগ্নহৃদয় আমার চোখে জল এনে দিয়েছিল। ভারতীয় ফুটবলের ক্রমবর্ধমান উন্নতির রেখা দেখা যাচ্ছে। আমি অনেক প্রতিভাবান ভারতীয় খেলোয়াড় দেখেছি আইএসএল ও আই লীগে। চায়নাও একি পদ্ধতি অবলম্বন করে সাফল্য পেয়েছে। ভালো কোচ, বিদেশী খেলোয়াড়রা এখন ভারতীয় ক্লাবে খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। পরিকাঠামো, কোচিং ক্যাম্প আগের থেকে অনেক বেড়েছে। আমার মনে হয় আগামী ১০ বছরে ভারত এশিয়ার অন্যতম ফুটবল শক্তিতে পরিনত হবে।

ইবিআরপিঃ ম্যাচের আগে নিজেকে ঠিক রাখেন কি করে?

এডুয়ার্ডোঃ আমি অনেকটা সময় আমার পরিবারের সাথে কাটাই বিশেষ করে আমার ছেলের সাথে। নেট সার্ফিং করি আর খুব ভালো লাগে রান্না করতে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাকে আরও কিছুটা ওজন কমাতে হবে বলে আমি কঠোরভাবে খাওয়া নিয়ন্ত্রন করে চলেছি। আমি পাস্তা, চিকেন, ভাত রান্না করতে পারি। মশলাজুক্ত ভারতীয় খাবার আমার সহ্য হয় না। ব্রাজিলে আমি সমস্ত রকম বার-বি-কু খেতাম। ফেইজোয়াদা আমার অন্যতম প্রিয় খাবার।

ইবিআরপিঃ ভারতে আপনার প্রথম আগমন আইএসএল ফ্রাঞ্চাইজি পুনে সিটি এফসি তে। তারপর আই লীগে প্রথমে মোহন বাগান আর তারপরে ইস্ট বেঙ্গলে আসেন। কেন?

এডুয়ার্ডোঃ আইএসএল মাত্র ৪ মাসের টুর্নামেন্ট। সেখানে আই লীগ ক্লাবগুলোর লম্বা মরশুম থাকে আর বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট খেলে, যেটা একটা প্রধান কারণ। দ্বিতীয়ত আমি কোলকাতা ভালবাসি বিশেষ করে এখানকার সমর্থকদের। এটা খুব ভালো হবে যদি দুটো লীগ এক হয়ে যায় আর সেখানে খেলা। তবে আমি আই লীগ খেলতে পেরে খুব খুশী।

ইবিআরপিঃ দল শেষ ৩টে ম্যাচে গোল খেয়েছে এবং ক্লিনশিট করতে পারে নি এখনো। আপনারা কি এর সমাধান খুজছেন? পরিবর্তনশীল রক্ষন কি এর প্রধান কারণ?

এডুয়ার্ডোঃ আমাদের শেষ ম্যাচ শিলং লাজং এফসি সারা খেলায় গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে তাও খেলার শেষ মুহূর্তে সেট পিস থেকে আমরা গোল হজম করি। আমরা সবাই এটা নিয়ে খাটছি, খুব তারাতারি আমরা এটা ঠিক করে নিতে পারবো আর গোল না খেয়ে ম্যাচ শেষ করবো।

ইবিআরপিঃ এবার দিনের সব থেকে গুরুত্তপূর্ণ জায়গা, “১৪ বছর ধরে ব্যাথা আর বেদনা, এবার না হলে কখনো না” ... এই শ্লোগানটা এখন সমস্ত ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের মুখে আর মনে ঘুরছে। আপনার চিন্তাভাবনা এবং সমর্থকদের প্রতি আপনার বক্তব্য।

এডুয়ার্ডোঃ আমি জানি এটা খুব দীর্ঘ সময় সমর্থক এবং ঐতিহ্যশালী ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের জন্য। আমি অনুরোধ করবো সমস্ত ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের স্টেডিয়ামে এসে আমাদের সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য এবং আমরা নিজেদের সবকিছু দিতে প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য একটা করে ম্যাচ এবং আমরা পয়েন্ট টেবিল ও প্রতিপক্ষের থেকে ম্যাচের প্রতি বেশী মনোযোগ করতে চাই। সমর্থকরা আমাদের শিরদাঁড়া এবং তাদের স্টেডিয়ামে উপস্থিতি আমাদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

ইবিআরপিঃ অসংখ্য ধন্যবাদ এডুয়ার্ডো আমাদের সাথে কথা বলার জন্য। আমরা আপনাকে এবং পুরো দলকে শুভেচ্ছা জানাই বারাসাতে ১৬ই ডিসেম্বর চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচের জন্য। এডুয়ার্ডো কথা দিয়েছে আই লীগ জিতলে নিজের হাতে রান্না করা ব্রাজিলিয়ান খাওয়ার খাওয়াবেন।

East-Bengal-Eduardo-Ferreira.jpg

 রিপোটার:- সুদীপ্ত পাল ও শুভদীপ বাসু.