EAST BENGAL the Real POWER -The Official Website
EAST BENGAL the Real POWER Fans

ময়দান গেল মিলন মেলায়। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানকে বইমেলায় মিলিয়ে দিল মৃদুল ছন্দ

মিলে গেল ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান। হাত ধরাধরি করল ব্রাজিল আর বাঁকুড়া। সেই ছন্দে ব্যাটে, বলে রান নয়, রং ছড়াল ছড়া।

  • Written By :: Pinakipan Ghosh
কবি মৃদুল দাশগুপ্ত। সাংবাদিক মৃদুল দাশগুপ্ত। এই দুটো পরিচিতির আড়ালে ‘ছড়াকার’ পরিচয়টা অনেকটা ফিকে হলেও মৃদুলের ছড়ার অন্য মজা জানেন পাঠকরা। তার ছড়া মানে চেনা চেনা কথা, চেনা চেনা ছন্দ কিন্তু অবাক করা বিস্ময়। সেই পরিচিতি অনেক কাল আগেই গড়েছেন মৃদুল দাশগুপ্ত। ‘সরস্বতীর হাঁস, সেও কি এমএ পাশ?’— এমন প্রশ্ন শুধু ছন্দের আনন্দ দেয় না, বিস্ময়ও তৈরি করে।


চেনা আশপাশকে নিয়ে ছড়া লেখার পাশাপাশি মৃদুলের কলমে বারাবার ধরা দিয়েছে চেনা-অচেনা ময়দান। কখনও ক্রিকেট, কখনও হকি, টেনিস আর সব সময় ফুটবল। সেই ফুটবলের আবার কোনও গণ্ডি নেই। মারাদোনার পায়ের শটে বল চলে যায় ইস্টবেঙ্গলের গ্যালারিতে। ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ কখনও রং বদলে লাল-হলুদ হয়ে যায়। কখনও সবুজ-মেরুন।

খেলাচ্ছড়া/ মৃদুল দাশগুপ্ত/ বোধশব্দ/ ৮০টাকা

কবিতার পাশাপাশি বিস্তর ছড়া লিখেছেন মৃদুল দাশগুপ্ত। ‘ঝিকিমিকি ঝিরিঝিরি’, ‘আমপাতা জামপাতা’ ইত্যাদি অনেক ছড়ার বই হয়েছে। কিন্তু খেলা নিয়ে নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছড়া কখনও দু’মলাটে বন্দি হয়নি। এ বার হল। কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হল মৃদুল দাশগুপ্তর খেলার ছড়া— ‘খেলাচ্ছড়া’। প্রকাশ করল লিটিল ম্যাগাজিন ‘বোধশব্দ’ (লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিয়নে টেবিল নং ১৪৪)।

eastbengal_club_EastBengalvsMohunBagan

তবে এই ৪২ পাতার বইয়ে খেলা নিয়ে ছড়া নাকি, ছড়া নিয়ে খেলা হয়েছে, সেটা ঠাহর পেতে পাঠককে মাথা চুলকোতে হবে। আবার কোনও কোনও ছড়া কোনও আগাম সংকেত না দিয়ে বয়সটা কমিয়ে দিতে পারে দুম করে। একটি ছড়ায় তিনি স্মৃতি উস্কে দিয়ে লিখেছেন—

‘কত না সুখের কাল
আমোদের দিন
সাঁতার কাটিত জলে
যদু, মহসিন।’
পুরনো দিনের কথা শোনাতে শোনাতেই তিনি চলে এসেছেন এ কালে। এ কাল মানে সেই কাল যখন পাড়ার মাঠটাই ভ্যানিস। খেলবে কোথায়?
‘ভিজে যায় দুই চোখ
ভারী হয় মন
সেইসব মাঠঘাট
আজ আবাসন।’
না, এই বই শুধুই এমন স্মৃতিমেদুরতায় ভরা নয় একেবারেই। বইয়ের পাতায় পাতায় রয়েছেন অমল, চুনি, পিকে, পরিমল দে-রা। রয়েছে চিংড়ি, ইলিশ। রয়েছে বড় ম্যাচের উদ্বেগ-আনন্দ। আবার উত্তাপ সরিয়ে ফুটবল-ঐক্যের কথাও বলেছেন মৃদুল। লিখেছেন—
‘সবুজ-মেরুন স্বপ্ন দেখি
লাল-হলুদে গাই
ব্যারেটো আর এডমিলসন
আমারই দুই ভাই।’

গোটা বইটা এক নিমেষ পড়ে ফেলা যায়। তবুও সংগ্রহ করে রাখতে হয়। কারণ, ছড়ায় ছড়ায় লুকিয়ে রয়েছে অনেক তথ্য। আর রয়েছে পক্ষপাতিত্ব। মৃদুল দাশগুপ্ত যে বাঙালি, সেটা বোঝা যায় ফুটবলের প্রতি টান প্রকাশ্যে এসে যাওয়া পক্ষপাতিত্ব দেখলে। এমনকি ক্রিকেটকে চিমটি কাটতেও ছাড়েননি—

‘পৃথিবীর চার ভাগে
তিন ভাগ জল
ক্রিকেট তুচ্ছ খেলা
খেলা— ফুটবল।’

এ যেন ঠিক ফুটবল নিয়ে ঘটি, বাঙালের লড়াইয়ের মতো এক লড়াই— ক্রিকেট বনাম ফুটবল। বার বার ফুটবলকে জিতিয়ে দিতে রবীন্দ্রনাথকেও আসরে নামিয়েছে মৃদুল দাশগুপ্তের ছড়া—

‘রবিনহোকে যে চেনে না রবীন্দ্রনাথ তাকে
স্বপ্নে দেবেন খুব বকুনি পঁচিশে বৈশাখে।’
মৃদুল দাশগুপ্ত-র আরও বড় বৈশিষ্ট্য হল মফস্‌সলকে টেনে আনা। সিঙ্গাপুরের পাশে শ্রীরামপুরকে না দাঁড় করাতে পারলে তাঁর মন ভরে না। আর এই বইতে গোটা বাংলা বার বার ব্রাজিল, ফ্রান্স, আর্জেন্তিনার সঙ্গে টক্কর দিয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলে জায়গা না পাওয়া একটি দেশের একটি প্রদেশ যে বিশ্ব-ফুটবল নিয়ে কতটা মেতে ওঠে, তা সহজ কথায় বুঝিয়ে দিয়েছেন মৃদুল—
‘ব্রাজিল হেরেছে বলে বড়ো বেদনায়
আমি কাঁদি হুগলিতে, তুমি বাঁকুড়ায়।’

এই বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়ার সঙ্গে রয়েছে নানা রংয়ের অলঙ্করণ। চিরঞ্জিত সামন্তকে ধন্যবাদ দিতেই হবে কারণ, তাঁর তুলি কখনও ছড়াকে টপকে চোখ টানার চেষ্টা করেনি। ছন্দপতন ঘটায়নি।

 

Related Articles

More Articles

Latest News

More News
What the Papers Says Posted on April 04, 2016

Indian International and East Bengal defender Arnab Mandal was handed a show cause by AIFF

Indian International and East Bengal defender Arnab Mandal was hande...