EAST BENGAL the Real POWER -The Official Website
EAST BENGAL the Real POWER Fans

আবেগ ও সন্মানের ম্যাচে মশাল জ্বালাতে চায় লাল-হলুদ :- খালিদ জামিল

"ডার্বি" বা, "বড়ো ম্যাচ", কথাটা বলতে বা শুনতে যতোটা সহজ, ম্যাচ টা সবুজ ঘাসে খেলা কিন্তু ততোটাই কঠিন! আসলে লড়াই টা শুধু দু-টো ফুটবল দলের মধ্যে নয়। লড়াই টা ইস্টবেঙ্গল-এর সঙ্গে মোহনবাগান-এর। তবে শুধু এইটুকু দিয়ে এই ম্যাচের ব্যখ্যা হয়না। আসলে এই ম্যাচ লাল-হলুদ বনাম সবুজ-মেরুনের। ইলিশ বনাম চিংড়ি র। আর, এই ম্যাচ ঘোটি-বাঙালের চিরন্তন লড়াই।

অনেক যুগ চলে গেছে। আজ ২০১৭ সাল। মানুষ প্রচন্ড ব্যস্ত! সংসারের চাপ। অফিসের টেনশন। বসের বকুনি। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চাপ.....সবই প্রত্যেকদিন মানুষ কে শেষ করে দেয়। তবে এতো কিছুর পরেও বাঙালি কিন্তু ইস্ট-মোহন দৈরথের দিন টিভি কিংবা মাঠ-মুখো হবেই। কারন, এটা মর্জাদার লড়াই। ওই যে কতো সালে ওপার বাঙলা থেকে মানুষ গুলো এপার বাঙলায় চলে এসেছিলো, সেদিনের পর থেকেই তাঁদের আত্মসন্মান বাঁচিয়ে রাখার লড়াই এই "বড়ো ম্যাচ"। সর্বহারা বাঙাল রা সব আশা শেষ হলেও এই একটা ম্যাচ জিতলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পরে। কনে? কী আছে এই ম্যাচে? ওই যে বললাম, এই ম্যাচ অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার লড়াই!

ভারত-পাকিস্তান বা, ইংল্যন্ড-অস্ট্রেলিয়া র থেকেও হয়তো কিছুটা বাড়তি গুরুত্ব পায় এই লড়াই। কারন, এই লড়াই শেষে "স্পোর্টস ম্যান স্পিরিট"-এর থেকেও বেশি একটা জিনিষ দেখা যায়। সেটা হলো, হেরে যাওয়া দলের সমর্থক দের চোখের জল। বাড়ি ফিরে ঘুম হারা দুটো চোখ আর...."মা! আজ খিদে নেই" -এর মতো কিছু কথা। এটা শুধু একটা ম্যাচ না। একবার ভাবুন তো....
নিজের ছোট ছেলে কে শ্মশানে দাহ করে এক বাবা মাঠে ছুঁটে এসেছিলেন প্রিয় দলের জয় দেখে, বুকের ক্ষত মুছবেন বলে! ১৯৭৫ সালের ৫-০ এর পর এক মোহন সমর্থক সুইসাইড করেছিলেন এই ইচ্ছে নিয়ে যে, তিনি পরের জন্মে সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে চিরশত্রু দের ৫ গোল দেবেন।

আসলে মানুষের তৈরী করা এমন কোনও শব্দ বা ভাষা নেই যেটা ইস্ট-মোহন দৈরথের সত্যি কারের ব্যখ্যা করতে পারে। করতে পারলে, কোনও কর্পোরেট দল আমাদের দিকে আঙ্গুল তুলতে সাহস পেত না। তারা তো আর এই 'যুদ্ধ'-এর মর্ম বোঝেন না! এই লড়াই স্নায়ুর লড়াই। সমর্থকেরা হিন্দু-ক্রিস্টান-বৌদ্ধ-পাঞ্জাবি-মুসলিম যা-ই হোন, ম্যাচের ৯০ টা মিনিট তাদের ভগবান একটাই, মাঠের ভিতর ১১টা লাল-হলুদ জার্সি।

তাই, যৌলুশ হীন আই-লীগ হোক বা, ছেলে খেলার সমান কলকাতা লীগ, চিরশত্রু কে এক ফোঁটা জমি ছাঁড়া যাবেনা। ম্যাচ শেষে সৃঙ্ঘ ছোঁবে প্রিয় দলের পতাকা। আকাশ উড়বে বিজয়ী দলের রঙ। আর মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত স্লোগান উঠবে দলের নামে। এটাই বাঙালি। এটাি আবেগ। আসলে, ফুটবল প্রেমী বাঙালীর ১২ মাসে যে '১৪' পার্ব্বন!!
মোহন-কোচ সঞ্জয় সেন যখন নিজের সেরা অস্ত্র সোনি নর্ডি কে নিয়ে ডার্বি মহড়ায় ব্যাস্ত তখন, খালিদ জামিল আইজল ম্যাচে রিসার্ভ বেঞ্চে থাকা ফুটবলার দের নিয়ে নিজের অঙ্ক ঝালিয়ে নিচ্ছেন। প্র্যাকটিস দেখে মনে হলো প্রথম ম্যাচের রক্ষণে কিছুটা হলেও বদল আসতে পারে। ডার্বি মানেই চাপের লড়াই। বিপক্ষে যখন সোনি-ক্রোমা-ডিকা র ত্রিফলা আছে, তখন তরুন মেহতাব সিংহ-এর বদলে গুরবিন্দর বা অধিনায়ক অর্ণব মন্ডল কে খেলাতেই চাইবেন লাল-হলুদ কোচ।

এদিন অনুশীলন শেষে ফুটবলার দের ভূল ত্রুটি বোঝানোর জন্য প্রায় ৩ ঘন্টা ডিজিটাল বোর্ডে ক্লাস নেন কোচ। ক্লাব গেট থেকে বাইরে আসার পর বিদেশী এডুযার্ডো যেমন বললেন,"আমি লাল-হলুদে এসেছি আই-লীগ জিততে। আমি সমর্থর দের স্বপ্ন সত্যি করার চেষ্টা করবো। ডার্বি টা আমাদের জিততেই হবে!" উল্টো দিকে চাপের খেলা খেলতে শুরু করে দিয়েছেন মোহন ফুটবলার রা। ডিকা এদিন ডার্বি তে গোল করার হুঙ্কার দিয়ে বললেন,"ওদের রক্ষণের শক্তি নেই আমাকে আটকাবে। ডার্বি তে আমি গোল করেই দল কে জেতাব।"

এক নজরে দুই প্রধানঃ-

ইস্টবেঙ্গল ক্লাব:
শক্তি- আই-লীগ শুরুর আগে আই. এস. এলের দল গুলোর বিরুদ্ধে দারুন খেলেছে। জামশেদপুর এবং গোয়া কে হারিয়েছে তাদের মাঠে।

মাঝমাঠের ইঞ্জিন আল-আমনা ও কাৎসুমি। যখন-তখন ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন।

প্রথম ম্যাচে নজর কারা খেলা খেলেছেন এডুয়ার্ডো। রক্ষণের স্তম্ভ তিনি।

সমস্যা- গোল নেই প্লাজার পায়ে। দারুন খেললেও, গোল করতে ব্যর্থ তিনি।

এডুয়ার্ডো ভরসা দিলেও, দ্বিতীয় স্টপারের জায়গা কে নেবেন? অর্ণব না, গুরবিন্দর?

আল-আমনা এবং কাৎসুমি আটকে গেলে কে দলের দায়িত্ব নেবেন? তাদের বিকল্প কী?

ডার্বিতে অভিঞ্জ ফুটবলার বলতে অর্ণব-গুরবিন্দর-রফিক। আর তেমন কারুর সেই অভিজ্ঞতা নেই।

মোহনবাগান ক্লাব:
শক্তি-আক্রমনে সোনি-ক্রোমা-ডিকা। যে কোনও দলকে ছিঁড়ে খাওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

ডার্বি তে অভিজ্ঞ শিল্টন-সোনি-আজারুদ্দিন-বিক্রমজিৎ।

বহুবার ডার্বি তে সাইডলাইনে বসা কোচ সঞ্জয় সেনের অভিজ্ঞতা। যা খালিদ জামিলের মাত্র একবার।

সমস্যা-
যুবভারতী র ঘাসে এর আজে ম্যাচ খেলেনি দল। মাঠ নিয়ে সমস্যায় পরতে হতেি পারে।

বিদেশি ডিয়েগো ফেরিয়েরা কে নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন। তিনি পুরোপুরি ফিট নন।

মিনার্ভা ম্যাচে ব্যর্থ ডিকা-ক্রোমা। দলের চালিকা শক্তি সোনি ছাড়া আর কেউ নেই। তিনি থেমে গেলে কী হবে?

গোলে শিল্টন না খেললে, কে দাঁড়াবেন তিন-কাঠিতে, তাও আবার ডার্বি তে? শিবিনরাজ এ শঙ্কর রা-তো অনোভিজ্ঞ।

সব মিলিয়ে, রবি-দুপুরের মেগা ম্যাচ হতে চলেছে ধুন্ধুমার। শেষ হাসি কোন দল হাসে, এখন শুধু সেইটার অপেক্ষা.

East-Bengal-Fc-mohun-bagan-ac

Related Articles

More Articles

Latest News

More News
Club News Posted on December 13, 2017

"I took an oath for the fans to win the I League, when I decided to sign for East Bengal":Eduardo Ferreira.

Our EBRP correspondent managed to catch up with the "Big Brazilian" ...