EAST BENGAL the Real POWER -The Official Website
EAST BENGAL the Real POWER Fans

"ভগবান" হীন মাতৃ-মন্দির। চলে গেলেন ইস্টবেঙ্গল সেবক.

"ভগবান" হীন লাল-হলুদ সমর্থক দের 'মাতৃ-মন্দির'। চলে গেলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের দীর্ঘ ৪০ বছরের সেবক, ভগবান দা। মিষ্ঠ ভাষি এই ভদ্রলোক ছিলেন প্রত্যেক ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের কাছের মানুষ। সমর্থক থেকে কর্তা, কোচ থেকে ফুটবলার- সবার জন্যই তিনি ছিলেন "ভগবান দা"! অনুশীলন শেষে ফুটবলার দের জার্সি, বুট, প্যান্ট সেব কিছুর দায়িত্ব নিতেন তিনিই।

তাঁর চলে যাওয়ায়, অভিভাবক-হীন হয়ে গেল সদ্য আলেকিত হওয়া লাল-হলুদ মাঠের সবুজ ঘাস। ৪ দশক ধরে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন লাল-হলুদের সেবায়। প্রয়াত স্বপন বাবুর মতোই, ভগবান বাবুও ছিলেন ইস্টবেঙ্গল জনতার খুব শ্রদ্ধার মানুষ। তাঁর অকাল প্রয়াণে নিঃসন্দেহে শোকের ছায়া নেমে এলো লাল-হলুদ তাঁবুতে।

দল হেরেছে, অগ্নিগর্ভ ইস্টবেঙ্গল মাঠ। ফুটবলার থেকে ক্লাব কর্তা— সমর্থকদের ক্ষোভের হাত থেকে কারও বাঁচার উপায় নেই। এমনকী চা, বাদাম বিক্রেতাদেরও নিস্তার নেই। রীতিমতো ভয়াবহ পরিস্থিতি। গ্যালারি থেকে ক্রমাগত উঠছে হুঙ্কার— কাউকে ক্লাব তাঁবুর ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
প্রিয় দল হারলে যে রকম হয় আর কী। হঠাৎই দেখা গেল, শীর্ণকায় এক ব্যক্তি কাঁধে ব্যাগ, হাতে কয়েকটা বুট নিয়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন। পরিচিতদের অনেকেই বারণ করলেন বেরোতে। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তে অটল। কী আশ্চর্য, উন্মত্ত জনতা তাঁকে আটকানো তো দূরের কথা বেরনোর রাস্তা করে দিল। শান্ত ভাবে হাঁটতে হাঁটতে ক্লাব তাঁবুতে ঢুকে বল, বুট রেখে আবার বেরিয়ে মাঠমুখো। কাজ যে এখনও শেষ হয়নি। ভগবানদা এ রকমই।

সব সময় মুখে লেগে থাকত নির্মল একটা হাসি। কথা এমনিতেই খুব কম বলতেন। যখন বলতেন, তখন মুখের কাছে কান না নিয়ে গেলে শোনাই যেত না।

ভগবান নাকি রুষ্ঠ হন। ময়দানের ভগবানদাকে সামান্য মেজাজ হারাতেও কেউ কখনও দেখেছেন বলে শুনিনি। দেখে মনে হতো আবেগহীন একটি লোক। চারপাশে কী হচ্ছে সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। আসলে কিন্তু ঠিক তার উল্টোটা।

ময়দানের অন্যান্য তাঁবুর কর্মীরা ভগবানদাকে খেপানোর জন্য বলতেন, ‘‘তোমার দল আর জিতবে না। অন্য ক্লাবে যাও।’’ সেখানেও কোনও প্রতিবাদ কখনও করেননি ভগবানদা। হাসিমুখে বলতেন, ‘‘এ বার ঠিক জিতবে।’’ তার পর সকলের অলক্ষে চোখের কোণটা মুছে নিতেন। যন্ত্রণাও লুকিয়ে রাখারও আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তাঁর।

ভগবানদার জীবনে বিলাসিতা বলতে, মুখে জর্দা পান নিয়ে ক্লাব তাঁবুর সামনে উবু হয়ে বসে শীতের দুপুরে রোদ পোহানো। আর হাত ধরে পাতার চুন মাঝেমধ্যে জিভে ছোঁয়ানো। এই শীতে সবই ঝড়ে গেল। ভাল থাকবেন ভগবানদা......

Related Articles

More Articles

Latest News

More News
Club News Posted on January 21, 2018

Kingfisher East Bengal lost their ‘home’ 2017-18 Hero I-League Kolkata derby to arch-rivals Mohun Bagan 2-0 at the Vivekananda Yuvabharati Krirangan.

Aser Pierrick Dipanda Dicka scored a brace with his first one coming inside first 55 seconds. The...