EAST BENGAL the Real POWER -The Official Website
EAST BENGAL the Real POWER Fans

অলীপ-জায়ার আশীর্বাদই জন্মদিনের সেরা উপহার EBRP-র কাছে

শেষ দৃশ্য। হল ছাড়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়েছে বেশ কিছুক্ষণ। কিন্তু ওদের আটকায় কার সাধ্যি! মঞ্চে তখন একঝাঁক কিশোর-তরুণ-যুবক-যুবতী। ওই শেষবেলার কিছুক্ষণের নাচটাই যে আসলে স্বস্তির নাচ। সাফল্যের নাচ। আবার কিছুটা বোধহয় প্রতিজ্ঞারও নাচ।

'মাছের রাজা ইলিশ...'-এর কান ফাটানো সুর আর কথার মহিমা তখন গ্রাস করেছে গোটা হল-কে। তারই মাঝে কে যেন তারস্বরে বলে উঠল, 'আসছে বছর...', পালটা ভেসে এল, 'আবার হবে...।' ঠিকই। রিয়েল পাওয়ার-ই পারে, শপথের মালা জপে স্বপ্নসন্ধানের পথিক হতে। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যার আত্মার যোগাযোগ, সেই যে পারে, সংকল্পের জয়রথে বীর সারথি হতে। পারে, সাধনার বেদিতলে অতন্দ্র পূজারী হতে।

প্রথম দৃশ্য। ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন শঙ্খধ্বনি। মঞ্চে লাল-হলুদের পাঁচ অগ্নিকন্যা। হাতের মোমবাতিগুলি থেকে সন্তুষ্টির দীপ্তি ছিটকে এসে জানান দিচ্ছে, 'স্বপ্ন-সাধনা-অধ্যাবসায়। তিনটি মন্ত্র নিয়ে যাদের জীবন...' সেই রিয়েল পাওয়ার স্মরণীয় করে রাখতে চলেছে এ সন্ধ্যা।

শুধু সুরেলা কণ্ঠে নয়। উদ্যম কোমর দোলানো তালে নয়। ছন্দের গাম্ভীর্যে নয়। সঞ্চালনার অলঙ্কারে নয়। উপচে পড়া জনস্রোতে নয়। জন্মদিনের কেক কেটে বাঁধনহারা উল্লাসে-উছ্বাসে নয়। জয়গানের কলরব-কোলাহলে নয়। বরং অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য সহযোগিতার মর্মস্পর্শে। একটু ভরসার হাত বাড়ানোর নিদারুণ প্রয়াসে। পিতৃহারা একরত্তি শিশুটির পাশে থাকার অঙ্গীকারে স্মরণীয় সে সন্ধে। ইস্ট বেঙ্গল অন্তঃপ্রাণ প্রয়াত অলীপ চক্রবর্তীর স্ত্রী জুঁই চক্রবর্তীর অশ্রুসিক্ত চোখদু'টি থেকে বর্ষিত আশীর্বাদে স্মরণীয় রিয়েল পাওয়ার-এর সে সন্ধে। EBRP-র দশম জন্মবার্ষিকীর প্রধান অতিথি প্রাক্তন ফুটবলার সমরেশ চৌধুরী ও রিয়েল পাওয়ার-এর অন্যতম সদস্য সৈকত বিশ্বাসের হাত দিয়ে অলীপ-জায়া জুঁই চক্রাবর্তীকে দেওয়া হয় এক লক্ষ টাকার বীমার কপি। EBRP-র তরফে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই LIC-র "জীবনচক্র" পলিসি করা হয়, যার সুবিধার্থে প্রয়াত অলীপের স্ত্রী সারাজীবন বছরে ৭,৭০০ টাকা করে পাবেন। পরবর্তীতে ওঁর ছেলেও এক লক্ষ টাকা এবং তার বোনাস পাবে। এমনকী প্রিমিয়াম-এর খরচ বহন করেছে রিয়েল পাওয়ার স্বয়ং। অহংকারে নয়। গর্বে নয়। অপার ভালোলাগার ভেলায় ভেসেই চোখ মোছে গোটা হল। রিয়েল পাওয়ার-এর বেদনার মহাকাশে অত্যুজ্জ্বল নক্ষত্র হয়েই হয়তো তার সাক্ষী থাকলেন অলীপ। অভিভূত সমরেশ তো বলেই ফেললেন, 'খেলোয়াড়দের পাশে খেলোয়াড়দের দাঁড়াতে দেখেছি। কিন্তু সমর্থকের পাশে সমর্থককে কোনওদিন এ ভাবে দাঁড়াতে দেখিনি।' রিয়েল পাওয়ার-এর তরফে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় তাঁদের, যাঁরা এই কর্মযজ্ঞে সামিল হয়েছেন এবং এই প্রচেষ্টাকে সর্বাঙ্গীন রূপ দিতে প্রভূত সাহায্য করেছেন।


হালতু কমিউনিটি হল সংলগ্ন গোটা এলাকা যেন ইস্টবেঙ্গলময় হয়ে উঠেছিল ১৫ নভেম্বর-এর সকাল থেকেই। লাল-হলুদের পতাকায়, ব্যানারে, ফেস্টুনে সে যেন এক ছোটোখাটো 'শহর ইস্ট বেঙ্গল' গড়ে ফেলেছিলেন স্থানীয় লাল-হলুদ সমর্থকেরা। আর রিয়েল পাওয়ার সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা অনুষ্ঠানকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের শিখরে। অনুষ্ঠানের অন্যতম কারিগর শ্রেয়সী ঘোষ ভট্টাচার্যর কথায়, 'আমাদের ১০ বছরের সুদীর্ঘ যাত্রাপথে এত বড় ইভেন্ট আগে কোনওদিন হয়নি।' রঞ্জাবলি দে কিংবা রেড চিলিজ ডান্স গ্রুপ-এর নৃত্য পরিবেশনা থেকে অনৰ্ঘ্য, সপ্তক, অনুষ্কার গান। ক্যুইজ কনটেস্ট 'সেরা বাঙাল' থেকে রক-পপ এর অনবদ্য মিশেলে ম্যাগনেট ব্যান্ড-এর চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স। সব মিলিয়ে স্টেজ-এর ব্যাকগ্রাউন্ডে ঝোলানো ফেস্টুনটি যেন আগেভাগেই নম্বর দিয়ে রেখেছিল -- 'দশে ১০'।

আদ্যোপান্ত বাঙাল। ধ্যানে-জ্ঞানে, শয়নে-স্বপনে-জাগরণে ইস্টবেঙ্গল ছাড়া আর কিছুই চেনেন না। আর ময়দান তাঁকে চেনে 'পিন্টু-দা' নামে। EBRP-র জন্মদিনের মঞ্চে প্রধান অতিথি ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের এই প্রবীণ প্রাক্তনী। রিয়েল পাওয়ার-এর অন্যতম সদস্য অর্ণব বন্দোপাধ্যায়ের কথায়, 'সমরেশ চৌধুরী আমাদের ক্লাবের অন্যতম সেরা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ছিলেন। রিয়েল পাওয়ার-এর অনুষ্ঠান শুনে তিনি এককথায় চলে এসেছেন। পিন্টু-দাকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি।' রিয়েল পাওয়ার-এর তরফে সম্মান জানানো হয় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষকর্তা মণীশ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গোলকিপার কোচ অভিজিৎ মণ্ডলকেও। লাল-হলুদ রঙের ছটায় সেলিব্রেশনকে রঙিন করে তোলেন কোচ-সহ ইস্ট বেঙ্গলের অনূর্ধ্ব ১৬ ফুটবলাররা।অনূর্ধ্ব ১৬ ফুটবল দলের কোচ অশ্রুজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, 'সমরেশ চৌধুরী-র মতো খ্যাতনামা ফুটবলারের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে আমার দলের ফুটবলারদের মতো আমিও গর্বিত। সকলের সদম্ভ উপস্থিতিতেই কেক কেটে পালিত হয় 'বার্থডে সেলিব্রেশন।' লাইট-সাউন্ড এর অপরূপ মাদকতায় তখন গোটা হল-এর দখল নিয়েছে 'মাছের রাজা ইলিশ আর খেলাতে ফুটবল.....।'

রবিঠাকুর লিখেছিলেন, "Faith is the bird that feels the light when the dawn is still dark.." EBRP-ও সেই একই বিশ্বাস রাখে। এখনও ভোরের আলো ফোটেনি ভালো করে।

তবু আরও অনেক অনেক আলো ঝলমলে দিনের স্বপ্ন দেখাও শুরু সে রাতের মঞ্চ থেকেই।