Author: Chinmoy Biswas
কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যেন ইতিহাস আবারও নতুন রূপে ধরা দিল। ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনালে হারের সেই তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে ডায়মন্ড হারবার এফসিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলকাতা লিগে জয়ের ছন্দে ফিরল লাল-হলুদ ব্রিগেড। যেন বলছে—“ইস্টবেঙ্গলকে হারানো সহজ নয়, কারণ এ শুধু একটা দল নয়, এটা এক শতবর্ষের আবেগ।”
ম্যাচের শুরু থেকেই ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ভঙ্গি দেখা গেল ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। আমন-বিষ্ণু-ডেভিডের দারুণ সমন্বয়ে ২৩ মিনিটেই গোল করেন ডেভিড। ঠিক যেমন সত্তরের দশকে পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মাঠ কাঁপিয়ে দিত, আজও তেমনই গ্যালারি জ্বালিয়ে দিল এই লাল-হলুদ দল।
বিরতির পর সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা করে ডায়মন্ড হারবার। দেবজিতের এক মুহূর্তের ভুলে পবনের গোলে ম্যাচে ফিরলেও, ইতিহাস বলে—ইস্টবেঙ্গল কখনও হাল ছাড়ে না। ৭৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জেসিন যেন আধুনিক যুগের ‘সুপার সাব’। সায়নের শট ফিরলেও জেসিনের অসাধারণ ফিনিশিং আবার এগিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গলকে। আর যোগ করা সময়ে জেসিনের দ্বিতীয় গোল প্রতিশোধের জয়গান গেয়ে গেল—“ডুরান্ডের সেই ক্ষত আমরা ভুলিনি।”
শেষ বাঁশি বাজতেই স্কোরবোর্ডে ৩-১। গ্যালারিতে তখন শুধু একটাই আওয়াজ—
“জয় ইস্টবেঙ্গল! জয় ইস্টবেঙ্গল !”
এই জয়ের ফলে শুধু পয়েন্ট টেবিলেই নয়, আবেগের লড়াইটাতেও এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। শতবর্ষ পেরিয়েও লাল-হলুদ মানে এখনও বীরত্ব, প্রতিশোধ আর গৌরবের অদম্য গল্প।
ইস্টবেঙ্গল মানেই ইতিহাস, ইস্টবেঙ্গল মানেই আবেগ!
Picture Courtesy: East Bengal Media