Author: Chinmoy Biswas
কলকাতা লিগ মানেই ইতিহাস, গ্যালারির আবেগ,লাল-হলুদ পতাকার সমুদ্র। সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতেই দাঁড়িয়ে আবারও ঝলমল করল লাল-হলুদ। মঙ্গলবার জর্জ টেলিগ্রাফকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে জায়গা করে নিল ইস্টবেঙ্গল। এই জয় শুধু পয়েন্টের নয়, ঐতিহ্যের বার্তাও স্পষ্ট করে গেল—কলকাতার ফুটবল এখনও লাল-হলুদের হৃদস্পন্দনেই বেঁচে আছে।
শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করলেও প্রথমার্ধে গোলের মুখ দেখল না ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া, কখনও পোস্টের বাইরে, কখনও জর্জের গোলকিপার তুহিন দের দুরন্ত সেভ। দর্শকদের মনে তখন আশঙ্কা—আজ বুঝি ভাগ্য সহায় নয় লাল-হলুদের।
বিরতির পর যেন নতুন ছন্দে ফিরল বিনো জর্জের ছেলেরা। ৬৮ মিনিটে গুইতের ভাসানো ক্রস থেকে ডেভিডের হেড প্রথমে আটকান জর্জ গোলকিপার তুহিন দে, তবে ফিরতি বলে ঠাণ্ডা মাথায় জাল খুঁজে নেন পি.ভি. বিষ্ণু। সেই গোলেই ভাঙল জর্জের প্রতিরোধ।
তারপরই মাঠে নেমে খেলার গতি বাড়ালেন সায়ন ব্যানার্জী। তাঁর দ্রুততা আর দাপটে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে পড়ে। ৮৩ মিনিটে বাঁ-পায়ের দুরন্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সায়ন। ৮৮ মিনিটে ফের গোল বিষ্ণুর—দলের হয়ে তাঁর দ্বিতীয় এবং ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। শেষ বাঁশি বাজানোর আগেই (90+3’) মনোতোষ মাজির গোল করে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।
ইস্টবেঙ্গল মানেই কলকাতা লিগের সোনালি ইতিহাস—অসংখ্য শিরোপা, কিংবদন্তিদের দৌলতে সমৃদ্ধ এক অধ্যায়। এদিনের জয় যেন সেই ইতিহাসেরই ধারাবাহিকতা। খেলায় আধুনিক ছন্দ থাকলেও ভক্তদের আবেগ বলছে—“কলকাতা লিগ মানেই ইস্টবেঙ্গল।”
Picture Courtesy: East Bengal Media